এক.
জেনারেল লরেঞ্জা খানিকটা হতভম্ব। কারণ তার সামনে এখন যাকে হাজির করা হয়েছে সে হল ফিনিক্স। ভয়ঙ্কর সংগঠন ডুম-এ-আই-আর সন্ত্রাসীদের হোতা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর চিহুম্বুর বলে উঠলো,
‘স্যার প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে আমাদের ইন্টার্গেশন চলছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন কাজের তথ্য বের করা সম্ভব হয়নি। আমাদের মত চুনোপুঁটিকে নাকি কিছুই বলবে না। চিন্তা করেন স্যার, আর কিছুক্ষণ হয়তো আয়ও আছে তার কিন্তু দেমাগ কত!’
জেনারেল আর কিছু না বলে চেয়ারে বসে পড়লেন। ফিনিক্স নামের ভদ্রলোকটি মাথা উঁচু করতেই তার চেহারা জেনারেলের চোখের রেটিনা থেকে কপি করে তার স্পাইনাল কর্ডে বসানো ‘এনি’ স্থানীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। কয়েক পিকো সেকেন্ডের মধ্যেই ফেস রিকগনিশনের মাধ্যমে ফিনিক্সের পরিচয় জেনারেলের মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয় এনি।
প্রফেসর পেশিয়া!!
দুই.
তো মিস্টার পেশিয়া ধরা যেহেতু পড়েই গেলেন তাহলে বলেন দেখি কেন আর্টিফিশিয়াল ফেস রিকগনিশনের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছেন?
- ‘আপনি বুঝবেন? আচ্ছা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করি। লম্বা করে দম নিয়ে বলতে শুরু করেন প্রফেসর, একসময় আমরা যেকোন জায়গায় দাঁড়িয়ে দিক নির্ণয় করতে পারতাম কোন যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই। তারপর কম্পাসের প্রবর্তন হবার পর মানুষ নিজের অনুভূতির ব্যবহার ভুলে কম্পাসের উপর নির্ভরশলি হয়ে ওঠে। আজ আমরা হাতের লেখা ভুলে গেছি। আধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে এখন আমাদের আর নিজেদের মেধা বলতে কিছুই নেই। প্রযুক্তির আরো উন্নতির ফলে এখন আমাদের কাছে সুপার কোয়ান্টাম কম্পিউটার যেখানে পৃথিবীর সব মানুষের ডাটাবেজ আছে। যার জন্য কষ্ট করে কারও কাউকে চিনতে হয় না। মানুষ সহজেই প্রয়োজন বোধ হলে সাহায্য নিচ্ছে ফেস রিকগনিশনের। এমনকি এ প্রযুক্তি ছাড়া মা তার সন্তানকেও চিনে না।’ প্রবল দুঃখবোধের ছায়া স্পষ্ট পেশিয়ার কণ্ঠে।
‘তাতে সমস্যাটা কোথায়? এর মাধ্যমে তো বরং আরো লাভই হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় তথ্যে মানুষের মাথাটা আর ভারি হচ্ছে না। মানুষ অন্য সৃষ্টিশীল কাজে নিজের মাথা ব্যবহার করতে পারছে এর ফলে। আর তাছাড়াও আমরা তো প্রযুক্তিকে আমরা বাদ দিয়ে দিতে পারি না। আপনি কি আবার আমাদের প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন নাকি?’
মৃদু হেসে পেশিয়া বলেন, ‘আমরা মোটেও সেকথা বলিনা। আমরা বলি একটি সীমা পর্যন্ত মানুষ আর প্রযুক্তি পাশাপাশি চলতে পারে। যদি কখনো ডাটাবেজ হারিয়ে যায় কি হবে চিন্তা করেছেন? মানুষ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে তখন। কেউ কাউকে চিনবে না।’
কঠোর কন্ঠে জেনারেল বলেন, ‘এমনটা কখনো হবে না। সারা পৃথিবীতে ৫০টি সেন্টারে এর ব্যাকআপ আছে। সবগুলো কখনো বিকল হবে না একসাথে।’
‘আচ্ছা বিকল না হয় হলো না, কিন্তু যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। তখন কি হবে?’ আশা ছাড়ছেন না পেশিয়া।
হা হা করে হেসে উঠেন জেনারেল, ‘পাগলের প্রলাপ। সুপার কোয়ান্টাম কম্পিউটার হ্যাক করা অসম্ভব। আর দুর্যোগে একযোগে সব কম্পিউটার ধ্বংস হবে না কখনো।’
মুখে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে রেখে পেশিয়া বলেন, ‘সময় হলে ঠিকই বুঝবেন। আপনার মতো মিলিটারি মস্তিষ্কের মানুষেরা তো এগুলো আরও বুঝবেন না।’
এ কথা শুনে চোখের পাতা কেঁপে উঠল জেনারেলের। সম্ভবত আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরেছে কিছুটা। ক্রদ্ধকন্ঠে বললেন, ‘এ সব গালগল্প অন্য কোথাও ঝাড়বেন। মৃত্যু আপনার অবধারিত। সেটাকে আরামদায়ক করতে চাইলে আপনার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারদের চেহারা আইডেনটিফাই করেন।’ সামনে রাখা ট্যাবটি তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন জেনারেল।
‘আপনার কেন মনে হল অন্তিম মুহুর্তে এসে আমি আমার আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবো?’ চোখে কৌতুকের ছায়া পেশিয়ার।
বিদ্রুপের হাসি হেসে জেনারেল বললেন, ‘আপনার জন্য না হয় কিন্তু আপনার দুই মেয়ের কথা ভেবে আপনাকে তো এই কাজ করতেই হবে। নাহলে তাদের কি অবস্থা হবে চিন্তাও করতে পারবেন না। জানেন তো, সৈন্যদেরকে নিজেদের কাজ নিয়ে কত ব্যস্ত থাকতে হয়! তার মধ্যে আপনার সেই সুন্দরী দুই মেয়েকে পেলে আমাদের মতো সৈন্যরা বরং পরিতৃপ্তি পাবে।’
‘না। আপনি এ কাজ করতে পারেন না।’ চিৎকার করে উঠলেন পেশিয়া। সম্ভবত জেনারেলের ইঙ্গিত বুঝতে পেরেছেন তিনি। আচ্ছা যা চান তাই করবো। কিন্তু কথা দিতে হবে এ ধরণের কাজ না করার।
মুচকি হাসলেন জেনারেল। তারপর ট্যাবটির দিকে ইঙ্গিত করলেন।
কাঁপাকাঁপা হাতে ট্যাবটি তুলে নিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন পেশিয়া, ‘আমাকে ক্ষমা করে দিও কমরেড, কোন উপায় ছিল না। অতঃপর ১০৬ জনকে মার্ক করে দেন তিনি। বলেন, এদের সবাইকে দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষণ দেয়া আছে। কাউকেই জীবিত ধরতে পারবেন না।
সে নিয়ে আপনাকে না ভাবলেও চলবে। এরপর নেটওয়ার্কে সবার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে ভয়েস পাঠান তিনি, ‘এদের কোথাও দেখামাত্রই গুলি করবে।’
তিন.
‘আপনার জন্য দুঃখবোধ হচ্ছে’ জেনারেলের চোখে মুখে ধূর্ত হাসি।
হঠাৎ চেয়ারে ছেড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন পেশিয়া, ‘গার্ড, গার্ড!’
পেশিয়ার এমন আচরণে হতভম্ব সবাই। মেজর চিহুম্বু লেজার গান তাক করে বলেন, ‘কি ব্যাপার? নার্ভাস ব্রেক-ডাউন হয়েছে নাকি? গার্ডকে ডাকছেন কেন? বসুন!’
ঠিক সেই মুহুর্তে একজন গার্ড লেজার গান নিয়ে ঘরে ঢোকে। দেখে পেশিয়ার হাতে লেজারগান ও সেটা তাক করা জেনারেলের দিকে। গার্ড লেজারগান তাক করে মেজরের দিকে। মেজরও কম যান না। সাথে সাথে দুজনের গান থেকে ট্রিগার চাপার শব্দ হবার পরক্ষণেই সেই দুজনের দেহ মেঝেতে আছড়ে পড়ে।
লাফিয়ে উঠে মেজর চিহুম্বুর লেজার গানটি হাতে তুলে নিয়ে জেনারেলের দিকে তাক করে বলেন, ‘এক্ষুনি প্রেসিডেন্টকে কল দিয়ে ইমার্জেন্সি ঘোষণা দিতে বলুন আর সুপার কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পাসওয়ার্ডটাও দিতে বলুন।’
‘কি হচ্ছে এসব!” চিৎকার করে উঠলেন জেনারেল লরেঞ্জো। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব তিনি।
এখনো বুঝেননি? আমাদের টিম আর্টিফিসিয়াল ফেস রিকগনিশন সিস্টেম হ্যাক করেছে। বাইরে আপনাদের দুজন গার্ড ছিল যারা আমার চিৎকার শুনে চলে এসেছে। তাদেরই একজন গার্ড রুমে ঢুকে মেজর চিহুম্বুরের চেহারার পরিবর্তে আমার চেহারা দেখতে পায়। আর মেজরও গার্ডের বদলে আমাদের একজন কমান্ডারের চেহারা দেখতে পায়। তাই তারা একে অপরের খুলি উড়িয়ে দিয়েছে। আপনার সিকিউরিটি কমান্ডোরা এখন নিজেরাই নিজেদের হত্যা করবে। পাশাপাশি কম্পিউটারের সিকিউরিটি সিস্টেমও কিছুক্ষণের মধ্যে মারা পড়বে। আমাদের যে ১০৬জন কমান্ডোকে দেখামাত্র হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন তারা এখন বিভিন্ন ডাটা সেন্টারে বিনা-বাঁধায় ঢুকে পড়বে।
অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছেন জেনারেল, ‘অসম্ভব! এ কম্পিউটার হ্যাক করা কখনো সম্ভব নয়।’
‘একজনের পক্ষে হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু ১০০ জন হ্যাকার যদি প্যারালালি যুক্ত হয়ে একযোগে এটাক করে?’
‘এ হতেই পারে না। মানুষের ব্রেন প্যারালালি যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে না।’ জেনারেলের কণ্ঠ।
‘মানুষের ব্যাপারে আপনার কোন ধারণা নেই। বিবর্তন এক অদ্ভুত প্রক্রিয়া। শত শত বছর ধরে স্পাইনাল কর্ডের ভিতর যে এনি এর মাধ্যমে আমরা সব তথ্যই পেতাম সেই ‘এনি’কেই এখন রিভার্স ফ্লো এর মাধ্যমে হ্যাক করা হয়েছে। এই এনির মাধ্যমেই সেসব হ্যাকার এখন এক অপরের সাথে প্যারালালি যুক্ত হতে পারছে। আপনার প্রযুক্তি নিজেই নিজের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
‘দেরি করছেন কেন? জলদি কল লাগান।’ ধমকের স্বরে বললেন ফিনিক্স।
‘আপনারা যদি সম্পুর্ন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিকগনিশন হ্যাক করেই থাকেন তবে পাসওয়ার্ডেও দরকার কি?’ শেষ মুহুর্তে এসে প্রশ্নটি ছুড়ে দিলেন পেশিয়ার দিকে।
‘আমরা হ্যাক করেছি সুপার কোয়ান্টাম কম্পিউটার। কিন্তু হ্যাক করে হার্ডওয়ারের কোন ক্ষতি করা যায় না। তাই ভল্টে ঢোকার পাসওয়ার্ড চাচ্ছি। তারপর সেগুলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেব।’ শেষের বাক্যটি ধমকের সাথে বলেন কটমট চোখে জেনারেলের দিকে তাকালেন।
কাঁপা কাঁপা হাতে ডিভাইসটি তুলে প্রেসিডেন্টকে কল করেন জেনারেল লরেঞ্জো। পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে ফিনিক্স। লরেঞ্জোকে প্রেসিডেন্টও সায় জানালেন। সে মতে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হলো পুরো স্থানজুড়ে। জেনারেল ও অন্যান্যদের বন্দি করা হলো। এখন জেলখানার রূপও অনেক পরিবর্তিত হয়ে গেছে। একটা পাতলা আবরণ সৃষ্টি হয়েছে জেলখানার গায়ে যার ভিতর দিয়ে বের হওয়া তো দুরের কথা কেউ হাত ঢুকাতেও পারবে না।
প্রফেসর পেশিয়া বললেন, ‘এত দিন খুব ফূর্তি করেছেন। এবার না হয় কিছুদিন ভিতরে থাকুন। খাবারদাবারের চিন্তাও করতে হবে না।’ আমাদের লোকজন এসে সেটা দিয়ে যাবে। বলেই হাসতে হাসতে বিদায় নিলেন প্রফেসর।
চার.
এভাবেই অতিবাহিত হলো কয়েক মাস। জেনারেলের সামনে দুঃসময়। তার হয়তো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে জেনারেলের চেহারায় তার কোন সুস্পষ্ট ছাপ নেই। নতুন কোন খেলা হয়তো খেলছে তার মনে।
কিছুক্ষণ পর একজন সৈন্য আসলো তার খাবার নিয়ে। এসেই একটি গান তাক করলো সেই পাতলা আবরণটির উপর। আবরণটি সরে গেলো। এবার খাবারটি বাড়িয়ে দিলো জেনারেলের দিকে। কিন্তু জেনারেলের কোন হুঁশ নেই। তিনি শুয়ে আছেন।
‘কি হলো? এরার মত পড়ে আছেন কেন? কি হলো? উঠুন!’ ডেকে চললো সৈন্যটি। সাড়া না পেয়ে সেলের ভিতরে ঢুকে গেল সৈন্যটি। ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়লো জেনারেল তার উপর। তার মাথায় আঘাত করে তাকে অজ্ঞান কওে গানটি ছিনিয়ে নিল। এবার বেরিয়ে পড়লো সেলের ভিতর থেকে।
পাঁচ.
গভীর রাত। সবাই ঘুমে মগ্ন। অথচ এত কিছু ঘটে গেল। কিন্তু কারো কোন সাড়া নেই। কন্ট্রোল রুমের পাশ দিয়ে সন্তর্পণে হেঁটে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। আর কেউ নয়। স্বয়ং জেনারেল লরেঞ্জো। টেবিলে চোখ পড়ে যেতেই আনন্দে লাফিয়ে উঠল ‘পেয়েছি পেয়েছি’ বলে। একটি গান তুলে নিলেন। এটা থেকে এক ধরণের তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় যা কারো মুখের উপর মারলে সে সেন্সলেস হয়ে যাবে। গানটি নিয়ে আবার সন্তর্পণে হাঁটতে লাগলেন জেনারেল। তাকে বের হতেই হবে। হঠাৎ কোন একটা কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে তিনি পড়ে যান। উঠে দাঁড়াতে যাবেন এমন সময় লক্ষ্য করেন, একদল সৈন্য তার দিকে তেড়ে আসছে। তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন। কিন্তু ঘাবড়ালেন না। গানটি তাদের দিকে তাক করে ট্রিগার চেপে দিলেন। সাথে সাথেই সেন্সলেস হয়ে গেল তারা। এবার জেনারেল বাহির হওয়ার রাস্তা পেয়ে গেলেন। গেটম্যানের দায়িত্বে থাকা সৈন্যদের অবস্থাও তেড়ে আসা সৈন্যদের মতই হলো।
ছয়.
রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন জেনারেল। মন আজ তার বেজায় খুশি। বেঁচে আসতে পেরেছেন ডুম-এ-আই-আর সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে। বাসায় গিয়ে কলিংবেল টিপলেন। কিন্তু আশ্চর্য্য কলিংবেল চাপার পরও কেউ দরজা খুললো না। একাধিকবার চাপার পরও কোন সাড়া নেই। এবার তিনি জোড় গলায় ডাক দিলেন, ‘মা।’ ডাকার সঙ্গে সঙ্গে তার মা দরজা খুলে দিলো। এসেই জড়িয়ে ধরলো তাকে,
‘লরেঞ্জো তুই কেমন আছিস বাবা?’
আশ্চর্য্যজনক বিষয় হলো তার মা তাকে দেখে তাকে কি করে চিনতে পারলেন? তাকে তো প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার কথা!
‘আয় ভিতরে আয়।’
ভিতরে গেলেন লরেঞ্জো। গিয়ে সোফায় বসে পড়লেন। তার মা তাকে বলতে শুরু করলেন, ‘কয়েক মাস আগে ডুম-এ-আই-আর সংগঠনের প্রধান পেশিয়া এ দেশের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফাংশান বিকল করে দেয়। তখন থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটার গুলোর বিস্তৃতিও কমিয়ে আনা হয়। সেগুলো এখন শুধু অফিস আদালতেই সীমাবদ্ধ। এজন্যই কলিংবেল কাজ করছিল না। এমনকি আমাকেও তোকে চেনর জন্য কোন প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ করতে হয়নি।’
‘কিন্তু মা,’ হঠাৎ উঠতে গেলেন জেনারেল।
তার মা তাকে বসিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যাক ভালই হয়েছে। আহারে! তোর মুখ এত শুকনা কেন? অনেকদিন কিছুই খাসনি। আয় বোস। তোকে খাইয়ে দি।’
এরপর তাকে খাইয়ে দিলেন মা।
খাবার শেষে মায়ের কোলে শুয়ে পড়লেন জেনারেল। এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করলেন মায়ের কোলে। বোধোদয়ের সুরে বললেন, ‘হ্যাঁ মা। তুমি ঠিকই বলেছ। আমার বোধোদয় হয়েছে। তোমার কোলের চেয়ে প্রাকৃতিক আর কি কোন কিছু আছে? সব কৃত্রিমতা নিপাত যাক। বেঁচে থাকুক মানুষের ভালবাসা। মায়ের ভালবাসা।’
লেখক
রহমতুল্লাহ আল আরাবী

0 Comments