প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ নিয়ে যত আপত্তি

চোখের সামনেই দেখছিলাম অনেক মানুষ একটা বই পড়েই বদলে যাচ্ছে। কারও বিশ্বাস বদলে যাচ্ছে, কারও বা চিন্তা-ভাবনা। সেই বইটি হলো, “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’। পরবর্তীতে এর দ্বিতীয় পর্বও (প্যরাডক্সিক্যাল সাজিদ-২) প্রকাশিত হয়, যেটা ঐসব মানুষদের বিশ্বাস ও চিন্তার পরিবর্তনের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এই দুটো বই পড়ে দুটো অনুভূতি পেয়েছি। প্রথমত কিছু আলোচনা অনেক ভালো লেগেছিল। কিন্তু দুটোতেই এমন কিছু অবৈজ্ঞানিক ও নিচু দৃষ্টিভঙ্গির কথা ছিল, যা পাঠক হিসেবে আমাকে হতাশ করেছিল। 


বিজ্ঞানের প্রতি বিতৃষ্ণা

আরিফ আজাদ একদিকে বৈজ্ঞানিক তথ্যকে “টালমাটাল” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে, আবার বিজ্ঞান দিয়েই ধর্মগ্রন্থকে ব্যাখ্যা করেছে। এটা নিতান্তই বোকামি ছিল। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের ১৪ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, “যে বিজ্ঞান নিজেই সর্বদা পরিবর্তনশীল, যে বিজ্ঞানের নিজের ওপর নিজেরই বিশ্বাস নেই, তাকে অন্যরা কীভাবে বিশ্বাস করবে?” 

কোনো সচেতন লেখক বুঝে-শুনে, চোখ-কান খোলা রেখে এই বাক্য কখনোই লিখতে পারেন না। কারণ আমরা জানি বিজ্ঞানের দৃশ্যমান পরিসীমা মানুষের ক্ষমতা ও জ্ঞানের উপর নির্ভর করে। বস্তুজগতের প্রতিটা বিষয়ের সাথেই বিজ্ঞানের অস্তিত্ব আছে। কিন্তু আমরা সেটাকে খুঁজে না পেলে এটা নিতান্তই আমাদের ব্যর্থতা বা অপারগতা। এর মানে এই নয় যে বিজ্ঞান ভুল করে। ভুলটা আসলে মানুষ করে এবং সৃষ্টিশীল মানুষই ভুলকে “বিজ্ঞান” বলে আখ্যায়িত করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানের কল্যাণেই সেই ভুল ধরা পড়ে। 

একই ভুল লেখক ১৪৭ নং পৃষ্ঠাতেও করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, “বিজ্ঞান এতই ছলনাময়ী যে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা বিজ্ঞানী স্যার অ্যালবার্ট আইন্সটাইনকেও তার দেওয়া মত তুলে ভুল স্বীকার করতে হয়েছে।“ আগেই বলেছি ভুলটা বিজ্ঞানীদের হয়, এটার দোষ বিজ্ঞানের নয়। এমনটাই হয়েছিল আইন্সটাইনের ক্ষেত্রেও। দেখুন, বিজ্ঞানীরা মুখ দিয়ে কিছু একটা বের করলেই যে সেটা বিজ্ঞান হয়ে যাবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নিউটন ধর্মতত্ত্বের উপরে ১২টি মতবাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথাগুলো কি বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে?

মজার বিষয় হলো, যেই অধ্যায়ে আরিফ আজাদ বিজ্ঞানকে “ছলনাময়ী” বলেছে, সেই অধ্যায়তেই এই ছলনাময়ীর মাধ্যমে ধর্মগ্রন্থকে তুলে ধরেছে। বিজ্ঞানকে সে যেভাবে সুযোগ বুঝে খোঁচা দিয়েছে, তাতে ধর্মকাতর মানুষের কাছে বিজ্ঞান “অখাদ্য” কিছু একটাতে পরিণত হয়েছে। উদীয়মান তরুণদের মনে বিজ্ঞানের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে। এমন ছলনাময়ী লেখনি আমাদেরকে হতাশ করেছে। 

বিবর্তন মানি না

আরিফ আজাদ বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যে “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” সিরিজটি তৈরি করেছেন। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো বিবর্তনের প্রতি তরুণদের ঘৃণা সৃষ্টি। আর এক্ষেত্রে তিনি হাতিয়ার হিসেবে ধর্ম ও ইতিহাসকে ব্যবহার করেছেন। বিবর্তনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তিনি বেশ কিছু ভুল তথ্য দিয়েছেন, যেগুলো কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। 

সবচেয়ে বোকামিটা হয়েছে ১৬৪ পৃষ্ঠায়। সেখানে বলা হয়েছে, “যে অ্যাপেনডিক্সকে একসময় অকেজো ভাবা হতো, বিজ্ঞান এখন তার অনেক ফাংশনের কথা আমাদের জানাচ্ছে।“ আরিফ আজাদের দাবি, নাস্তিক বিবর্তনবাদীরা নাকি বলেছে, “অ্যাপেনডিক্স হলো আমাদের শরীরের অপ্রয়োজনীয় অঙ।…যদি কোনো বুদ্ধিমান সত্ত্বা আমাদের সৃষ্টি করতো, তাহলে অ্যাপেনডিক্সের মতো অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ আমাদের শরীরে রাখতো না।“ হয় লেখক অ্যাপেনডিক্স সম্পর্কে জানে না, আর না হয় জেনেও ভুল করেছে। 

অ্যাপেনডিক্সকে অপ্রয়োজনীয় অর্থাৎ Unnecessary কখনোই বলা হয়নি, বলা হয়েছে এটি Vestigial. অনেকে এর বাংলা অনুবাদ করেন “অপ্রয়োজনীয়” বা “নিষ্ক্রিয়”। কিন্তু ভেস্টিজিয়্যাল অর্গানকে যে অপ্রয়োজনীয় বা নিষ্ক্রিয় হতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আসলে ভেস্টিজিয়্যাল অর্গান বলতে এমন অঙ্গকে বোঝায়, যা না হলেও চলবে, যেটা বিবর্তনের ধারায় গুরুত্ব হারিয়েছে। 

হ্যাঁ, অ্যাপেনডিক্সকে অকেজো ভাবা হতো। কিন্তু এখন এর গুরুত্ব জানার পরে এটা বলা যাবে না যে এটি আর বিবর্তনের প্রমাণ নেই। অ্যাপেনডিক্স বিবর্তনের প্রমাণ ছিল আর আজও আছে। চলুন, ব্যাখ্যা করি। “ভেস্টিজিয়্যাল অর্গান” বলতে এমন অঙ্গকে বোঝানো হয়, যেটি কোনো জীবের পূর্বপুরুষ বা আত্মীয়দের মধ্যে থাকলেও ঐ জীবের মধ্যে এমন অবস্থায় আছে যে সেটাকে দেহ থেকে বের করে ফেললে দেহের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। ভেস্টিজিয়্যাল অর্গানের আরেকটা ব্যাখ্যা আছে। এটা এমন এক ধরনের অঙ্গ, যা একটি প্রজাতির আত্মীয় বা পূর্বপুরুষদের মধ্যে প্রকট প্রভাব ফেললেও ঐ প্রজাতির মধ্যে প্রভাবটা কম বা প্রচ্ছন্ন। 

উপরের দুইটা ব্যাখ্যাই অ্যাপেনডিক্সের সাথে খাপ খায়। প্রথমত, বর্তমানে অ্যাপেনডিসাইটিস হলে অ্যাপেনডিক্সকে সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। আর এর প্রভাবে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। রোগী দিব্যি হেঁটে-দৌড়ে জীবনযাপন করতে পারে। দ্বিতীয়ত, অ্যাপেনডিক্স বিভিন্ন তৃণভোজী স্তন্যপায়ী অন্যকিছু প্রাণীর খাদ্য গ্রহণ এবং পরিপাকের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেহকে সরাসরি উপকৃ্ত করলেও মানুষের ক্ষেত্রে এত বড় ভূমিকা পালন করে না। অর্থাৎ আমাদের পর্যায়ে এসে এর প্রয়োজনটা কমে গিয়েছে। আর এটাই বিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণগুলোর একটি।

“প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” বইতের ১৬৫ নং পৃষ্ঠাতেও বিবর্তন বিরোধী কথা বলে ধোঁকাবাজি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “পৃথিবীতে কোটি কোটি প্রাণী রয়েছে। সেই হিসেবে বিবর্তনবাদ সত্য হলে কোটি কোটি প্রাণী রয়েছে। সেই হিসেবে কোটি কোটি প্রাণীর বিলিয়ন বিলিয়ন মিসিং লিংক পাওয়ার কথা। কিন্তু মজার ব্যাপার, এরকম কোনো মিসিং লিংক আজ অবধি পাওয়া যায়নি।“ লেখক এখানে একটা ভুল করেছে, একটা মিথ্যা বলেছে।

প্রথমত, আমাদের “মিসিং লিংক” জিনিসটা বুঝতে হবে। এটার আদর্শ নাম হলো “ট্রানজিশনাল ফসিল”। ধরুন, A একটি জীব, যেটি ক্রমে ক্রমে বিবর্তিত হয়েছে। আর এর ফলে একটা সময়ে গিয়ে স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের F জীব প্রজাতি সৃষ্টি হয়েছে। A থেকে F কিন্তু একবারে আসেনি। মাঝখানে আরও কিছু মিশ্র বৈশিষ্ট্যের জীব ছিল। অর্থাৎ বিবর্তনের ফলে যখন সম্পূর্ণ নতুন কোনো গোষ্ঠী তৈরি হয়, তখন পূর্বপুরুষ ও উত্তরপুরুষের কিছু বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে গঠিত মিশ্র জীব পাওয়া যায়। একেই Transitional Species বলে। আর এগুলো যেহেতু প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফসিল আকারে পাওয়া যায়, তাই চূড়ান্তভাবে একে ট্রানজিশনাল ফসিল বলা হয়। 

এবার আসি, বইয়ের কথা। বলা হয়েছে যে বিবর্তনবাদ সত্য হলে বিলিয়ন বিলিয়ন মিসিং লিংক পাওয়ার কথা। কথাটা পুরোপুরি ভুল। প্রথমত আরিফ আজাদ পরিমাণটা ভুল বলেছে। দ্বিতীয়ত আমরা যে সব ট্রানজিশনাল ফসিল উদ্ধার করে ফেলতে পারবো, এমনটা বলা যায় না। আগে মানুষ ডাইন্সরের ব্যাপারে জানতো না, এখন জেছে। একইভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরণের মিসিং লিংক পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু লেখক এগুলোকে একদমই উপেক্ষা করল। তাহলে আর্কিওপটেরিক্স কী?

এখানেই শেষ নয়, লেখক বইটির ১৬৩ নং পৃষ্ঠায় Junk DNA এর আশ্রয়ে বিবর্তনকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। আগে জাঙ্ক ডিএনএকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হতো। তবে এপিজেনেটিক্সের কল্যাণে আমরা জানি যে এটা আসলে অপ্রয়োজনীয় নয়। কিন্তু এতে এটা প্রমাণিত হয় না যে বিবর্তন মিথ্যা। বরং, জাঙ্ক ডিএনএ আত্মীয়তার প্রমাণ দেয়। মানুষ এবং ইঁদুরের Junk DNA এর 200 নিউক্লিওটাইড দৈর্ঘ্যের 481টি Junk DNA একদমই একইরকম। এই জাঙ্ক ডিএনএ গুলো কুকুর, মাছ সহ বিভিন্ন জীবে প্রায় একইরকম। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, জাঙ্ক ডিএনএ প্রমাণ করে যে বর্তমান কালের জীবদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ রয়েছে, যা বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। 

আরিফ আজাদ জাঙ্ক ডিএনএকে কেন্দ্র করে ১৬৩ নং পৃষ্ঠায় রিচার্ড ডকিন্সের ভুল নিয়ে কথা বলেছে। প্রথমেই বলেছিলাম বিজ্ঞানীরা ভুল করতে পারে, এটার দায়ভার বিজ্ঞানের নয়। যাহোক, যেই ডকিন্সকে সে ১৬৪ পৃষ্ঠায় ইঙ্গিতে “চিটার” আখ্যা দিয়েছে, সেই ডকিন্সের রেফারেন্স দিয়েই ১৪২ নং পৃষ্ঠায় সে স্রষ্টার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। হাও ফানি!

আরিফ আজাদের ভুল ও মিথ্যাচার এখানেই শেষ নয়। ঐ বইয়ের ১৬৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, “বিবর্তনবাদ টিকে আছে কেবল পশ্চিমা বস্তুবাদীদের অব্যহত মিথ্যাচার, ক্ষমতা আর টাকার জরে। এই বিবর্তনবাদের সর্বশেষ অস্ত্র ধর্মকে বাতিল বলে বয়কট করা।“ বুঝলাম না, লেখক কি স্বপ্নের ঘোরে কথাগুলো লিখেছে? “বিবর্তনবাদ” বিজ্ঞানের একটি বিশেষ বিষয়। আর বিজ্ঞান কাউকে নাস্তিক হতে বলে না। স্রষ্টা আছে নাকি নেই, এটা নিয়ে বিজ্ঞানের কোনো মাথাব্যাথা নেই। বিবর্তনবাদ শুধু জীবের ক্রমবিকাশের কথা বলে। হ্যাঁ, বিবর্তনবাদীরা নাস্তিক হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বিবর্তন পড়া মানেই নাস্তিকতা, বিবর্তনে বিশ্বাসীরা নাস্তিক। মোটেই নয়। 

একটা বিষয় ভেবে দেখুন। কোনো ধর্মপ্রচারক যদি খুন বা ডাকাতি করে, তাহলে সেটার দায়ভার কি ধর্ম নেবে? এখানে কি ধর্ম দোষী? উত্তর হবে, “না”। তাহলে বিবর্তনের কিছু অনুসারী যদি নাস্তিক হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বিবর্তনবাদ কেন প্রশ্নবিদ্ধ হবে? নাস্তিকতা সম্পূর্ণ বিষয়, এটা বিবর্তন নির্ধারণ করে না। 

আরও আছে। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ-২ এর ১১৭-১৬৭ পৃষ্ঠাব্যাপী ডারউইনিজম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। না, ভুল বললাম, আসলে ডারউইনিজমের বিরুদ্ধে মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রবন্ধটির নাম ছিল “গল্পে গল্পে ডারউইনিজম”। এটা পুরোটাই বাজে! লেখক সেখানে দেখিয়েছেন যে হিটলার, মার্ক্স, লেনিন এবং স্ট্যালিন নাকি ডারউইনের তত্ত্বের অনুরাগী হয়ে নাস্তিকতা, নাশকতা ও ঘৃণা ছড়িয়েছিল, যেটা কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করেছে। লেখক কীভাবে ধূর্ততার সাথে ডারউইনিজম এবং ইতিহাসের বর্বরতা ও সামাজিক বৈষম্যকে একত্রিত করেছেন, সেই গালগল্প এখানেই তুলে ধরতে চাচ্ছি না। শুধু একটি ছোট্ট যুক্তি দিবো।

আরিফ আজাদের কিছু বক্তব্য পাঠকদেরকে বিজ্ঞান বিরোধী করে তুলতে পারে, অনেকের কাছে বিজ্ঞান “অখাদ্য” কিছু একটাতে পরিনণতও হয়েছে। এখন তার কোনো ভক্ত যদি বিজ্ঞানের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে বাংলাদেশের সকল বিজ্ঞানীদেরকে হত্যা শুরু করে, তাহলে সেটার দায়ভার কি আরিফ সাহেবের হবে? নিশ্চয়ই, না। তাহলে ডারউইনের ভক্তরা যদি ভুল কিছু করে, তাহলে ডারউইন কেন পাপের ভাগীদার হবে? ডারউইন কি লিখে দিয়ে গিয়েছিল যে দুর্বলেরা টিকে থাকার অযোগ্য, তাই হিটলারের উচিৎ ইহুদিদেরকে মেরে ফেলা?

“গল্পে গল্পে ডারউইনিজম” প্রবন্ধে কোথাও “ডারউইনিজম” নিয়ে কথা বলা হয়নি। শুধু ডারউইনকে নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। লেখক একদিকে ডারউইনকে পাপী বানাতে চেয়ছে, অন্যদিকে বিবর্তনকে খুঁচিয়েছে। ফলে তার মিথ্যাচারের প্রভাবে তরুণেরা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। যদি প্রবন্ধটাতে ডারউইনিজমের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে সমালোচনা করা হতো, তাহলে কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু এওরকম জঘন্য ধোঁকাবাজি মেনে নেওয়া যায় না। 


উপসংহার

এক হাড়ি দুধের মধ্যে এক ফোঁটা গোচনা পরলে যেরকম পুরো দুধটাই নষ্ট হয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” সিরিজটা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে আরিফ আজাদের ভুল ও অজ্ঞতার কারণে। বই দুইটির অনেক আলোচনা ইতিবাচক ছিল বটে, কিন্তু লেখক কী করতে গিয়ে কী করে ফেলেছেন, সেটা বুঝে আসল না। সত্যের বিজয়ের জন্যই এতক্ষণ সমালোচনা করলাম। আশা করি সত্যেরই জয় হবে।


লেখক
তাহসিন আলম উৎস 

Post a Comment

0 Comments