জ্ঞান মনুষ্যজাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এটি প্রকৃতির রহস্যকে উন্মোচনের পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যতেরও এক নতুন রূপরেখার অবতারণা করে। অতি ক্ষুদ্র অণু-পরমাণু কিংবা কোষের গঠন থেকে বৃহৎ গ্যালাক্সি - বিজ্ঞান আজ আমাদের সামনে খুলে দিয়েছে এক অবারিত সম্ভাবনার দ্বার। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়তই গবেষণার ফলে নিত্য নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের সভ্যতা ও জ্ঞানের জগতকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। তাদের উদ্ভাবন আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করে তুলছে, তেমনি আমাদের ভাবনা দিগন্তের বাইরে অভাবনীয় কিছু করে চমকে দিচ্ছে। এমন অনেক জানা অজানা ঘটনা শেষমেশ আমাদের মনে প্রায়শই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। অবচেতন মনেই আমরা বলে উঠি- কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এটি? মহাবিশ্ব ঠিক কী দিয়ে তৈরি? পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব হলো কীভাবে?
এমন সব হাজারো প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা গবেষণার মাধ্যমে আমাদের তুলে ধরেন যে বিজ্ঞানীরা তাদের সম্মানার্থে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে অনেক। বিজ্ঞানীদের সম্মানিত করার জন্য পৃথিবীব্যাপী যেসব পুরস্কার চালু রয়েছে তার মধ্যে 'ব্রেকথ্রু পুরস্কার' অন্যতম। ব্রেকথ্রু পুরস্কারকে বলা হয় 'বিজ্ঞানের অস্কার'। প্রতি বছর ফান্ডামেন্ডাল ফিজিক্স,লাইফসায়েন্স ও গণিত- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির বিজয়ী ৩ মিলিয়ন ডলার করে পুরস্কার পান। এছাড়া নতুন গবেষকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বর্তমানে ব্রেকথ্রু পুরস্কার ফাউন্ডেশন থেকে ‘নিউ হরাইজন ইন ম্যাথেমেটিকস ও ফিজিক্স এবং ‘মারইয়াম মির্জাখানি নিউ ফ্রন্টিয়ার্স’ পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ব্রেকথ্রু পুরস্কারের প্রবর্তকদের মধ্যে রয়েছেন সার্গে ব্রিন,প্রিসিলা চ্যান,মার্ক জাকারবার্গ,ইউরি ও জুলিয়া মিলনার এবং অ্যানি উসিসকি। জ্যাক মা,মা হুয়েতাং এবং প্রবর্তকদের সকলের আর্থিক সহায়তায় তৈরি ব্রেকথ্রু ফাউন্ডেশন থেকে দেওয়া হয় এ পুরস্কার। শুরুটা হয় ২০১২ সালে রাশিয়ান পদার্থবিদ ও উদ্যোক্তা ইউরি মিলনারের হাত ধরে। সে বছরেই 'ফান্ডামেন্ডাল ফিজিক্স প্রাইজ ফাউন্ডেশন' চালু করে পুরস্কারের প্রবর্তন করেন তিনি। সেবছর শুধু ফান্ডামেন্ডাল ফিজিক্সেই দেওয়া হয় পুরস্কার। পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে লাইফ সায়েন্স ও গণিত পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নাম ধারণ করে 'ব্রেকথ্রু পুরস্কার'। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্রেকথ্রু প্রাইজের ওয়েবসাইটে অনলাইনে নমিনেশন আহ্বান করা হয়।
প্রতি বছর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার দিনে দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের উদ্ভাবন জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার জন্য থাকে লেকচারের ব্যবস্থা। ব্রেকথ্রু পুরস্কারের দারুণ ট্রফিটি তৈরি করেছেন আইসল্যান্ড বংশোদ্ভূত ডেনিশ শিল্পী ওলাফার এলিয়াসন। অনেকটাই টরয়েডের আদলে তৈরি ট্রফিটি যেন ব্ল্যাক হোল কিংবা ডিএনএ এর কুণ্ডলীর কথাই বার বার মনে করিয়ে দেয়।
তথ্যসূত্র: breakthroughprize.org
লেখক:
মোঃ আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ
শিক্ষার্থী,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।


0 Comments